আলহামদুলিল্লাহ, প্রতারক চক্রের ১০ সদস্য গ্রেপ্তার: আজহারী
আলহামদুলিল্লাহ, প্রতারক চক্রের ১০ সদস্য গ্রেপ্তার: আজহারী
জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীর নাম, ছবি ও কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে ভুয়া ওষুধের বিজ্ঞাপন তৈরির অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার শেরশাহ কলোনী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ থেকে ৯ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানাধীন চন্দ্রিমা মডেল টাউন এলাকায় পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় অপর আসামি মো. ইমরানকে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ১। মো. সারাফাত হোসেন (২১) ২। সাফায়েত হোসেন শুভ (২১) ৩। তৌকি তাজওয়ার ইলহাম (১৯) ৪। তাকিবুল হাসান (২১) ৫। আব্দুল্লাহ আল ফাহিম (২২) ৬। মিনহাজুর রহমান শাহেদ (১৯) ৭। শাহামান তৌফিক (২১) ৮। ইমন হোসেন বিজয় (২১) ৯। অমিদ হাসান (২১) ও ১০। মো. ইমরান (২৪)।
প্রতারক চক্রের ১০ সদস্য গ্রেপ্তার হওয়ার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্ট দিয়েছেন মিজানুর রহমান আজহারী।
পোস্টে তিনি লেখেন, আলহামদুলিল্লাহ, প্রতারক চক্রের ১০ সদস্য গ্রেপ্তার। এটি কেবল শুরু। অভিযান চলছে। সামনে আরও সাঁড়াশী অভিযান চলবে।
তিনি আরও বলেন, যারা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) দিয়ে এতদিন আমার ছবি, ডীপ-ফেইক ভিডিও ব্যবহার করে নানা ধরণের ভুয়া ওষুধের বিজ্ঞাপন বানিয়ে জনসাধারণের সাথে প্রতারণা করে আসছিল, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
পোস্টের শেষে তিনি বলেন, এখনো যারা এসব চালিয়ে যাচ্ছে, তাদেরকেও দ্রুততম সময়ে আইনের মুখোমুখি করা হবে ইনশাআল্লাহ।
এ ঘটনায় পল্টন মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রথম ভুয়া ভিডিওগুলো নজরে আসে আজহারীর। পরে তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দেন। এ ঘটনায় ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পল্টন থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয় এবং পরবর্তীতে সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬-এর আওতায় মামলা দায়ের করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ডিপফেক ভিডিও তৈরি করে ভেষজ ওষুধসহ বিভিন্ন পণ্যের ভুয়া বিজ্ঞাপন প্রচার করে আসছিল। এসব ভিডিও এমনভাবে তৈরি করা হতো, যেন মিজানুর রহমান আজহারী নিজেই পণ্যগুলোর প্রচার করছেন।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্তরা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কণ্ঠ ও চেহারা নকল করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছিল এবং ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সুনাম ক্ষুণ্ণ করছিল। অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে ১১টি ল্যাপটপ, ৪৭টি স্মার্টফোন, ২টি পেনড্রাইভ, ২১টি সিমকার্ড এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ যৌন উত্তেজক ওষুধ জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে মিজানুর রহমান আজহারী ছাড়াও তাসনিম জারা ও জাহাঙ্গীর কবির-এর মতো পরিচিত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া বিজ্ঞাপন তৈরি করে অবৈধভাবে পণ্য বিক্রি করত।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িত অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
🎁 Your Special Offer is Loading...
Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.
⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Comments
Post a Comment