জাতীয় সংসদে থাকছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীও, তবে…

 জাতীয় সংসদে থাকছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীও, তবে…


প্রতিনিধিরা একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরিষদ তার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে। সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হওয়ার পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। এর মেয়াদ হবে নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত।এক্ষেত্রে প্রথম ধাপে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে গণভোটের ফলাফল ঘোষণা করবে। এরপর সরকার সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। সাধারণত সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদে নির্দিষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হয়। সংশোধনী পাস হয়ে রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়ার পর তা কার্যকর হবে। এরপর উচ্চকক্ষের কাঠামো, সদস্য সংখ্যা, নির্বাচন বা মনোনয়ন পদ্ধতি, মেয়াদ এবং ক্ষমতা নির্ধারণে পৃথক আইন প্রণয়ন করা হতে পারে। এসব প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।



উচ্চকক্ষ গঠনের পদ্ধতি কী হবে, তা নির্ভর করবে সংশোধিত সংবিধান ও প্রণীত আইনের ওপর। সম্ভাব্যভাবে সদস্যরা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারেন, আবার পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতিও থাকতে পারে যেখানে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ভোট দিয়ে সদস্য নির্বাচন করবেন। কিছু ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ, নারী বা সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে মনোনয়ন ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে। সদস্যদের মেয়াদ সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্ধারিত হয় এবং তারা শপথ গ্রহণের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করেন। উচ্চকক্ষ গঠনের পর সংসদ কার্যত দ্বিকক্ষবিশিষ্ট হয়ে যাবে অর্থাৎ নিম্নকক্ষ (জাতীয় সংসদ) ও উচ্চকক্ষ মিলেই আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।



উচ্চকক্ষে থাকবে ১০০টি আসন। এই আসনে থাকবে সংসদীয় নির্বাচনে জয়ী দলগুলোর প্রার্থী। পিআর পদ্ধতি বা আনুপাতিক হারে বিভিন্ন দল মনোনীত ১০০ সদস্য নিয়ে গঠিত হবে এই সংসদ। আর উচ্চকক্ষের প্রধান কাজ সাধারণত আইন পর্যালোচনা ও পুনর্বিবেচনা করা। সাংবিধানিক সংশোধনী, গুরুত্বপূর্ণ আইন সংশোধনীর ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের বিশেষ ক্ষমতা থাকবে। উচ্চকক্ষ সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারলেও সরকারের ওপর অনাস্থা আনতে পারবে না। দুই কক্ষের মধ্যে কোনো মতবিরোধ দেখা দিলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের বিধান রাখা হয়েছে।নিম্নকক্ষে পাস হওয়া বিল উচ্চকক্ষে পাঠানো হলে সেখানে তা নিয়ে আলোচনা, সংশোধনী প্রস্তাব বা মতামত দেওয়া হতে পারে। এতে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ তৈরি হয়। অনেক দেশে উচ্চকক্ষ সরাসরি সরকার গঠন বা বাজেট প্রণয়নে ভূমিকা না রাখলেও নীতিগত বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। এর উদ্দেশ্য হলো ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করা এবং বিভিন্ন অঞ্চল, পেশাজীবী বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।



উচ্চকক্ষ প্রশ্নে ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বিভিন্ন বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, অর্থাৎ লিখিতভাবে ভিন্নমত পোষণ করেছে। যেমন— ঐকমত্য কমিশনের সিদ্ধান্ত দেশে দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা থাকবে। এর নিম্নকক্ষ (জাতীয় সংসদ) এবং উচ্চকক্ষ (সিনেট)। সিনেটে একশ সদস্য থাকবে। এতে সিপিবি ছাড়া ৩২টি দলই একমত হয়েছে। তবে নিম্নকক্ষের নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষের ১০০ জন সদস্য নির্বাচিত হবেন— এতে আপত্তি জানিয়েছে বিএনপিসহ আরেকটি দল।



এ ছাড়া রাজনৈতিক দলগুলো নিম্নকক্ষের সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের সময় একই সঙ্গে উচ্চকক্ষের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে এবং তালিকায় কমপক্ষে ১০ নারী প্রার্থী থাকতে হবে বলা হলেও এতেও নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে বিএনপিসহ সেই দলটি।



বিষয়টি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি ড. আলী রীয়াজ গণমাধ্যমকে বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো চাইলে নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীদের উচ্চকক্ষের সদস্য পদে মনোনয়ন দিতে পারবে। এটি শুধু ত্রয়োদশ সংসদে প্রযোজ্য হবে। পরে এ সুযোগ থাকবে না। কারণ, এবারের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হওয়ায় সংবিধান সংস্কারের বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি হয়েছে।



চতুর্দশ সংসদ নির্বাচন সংশোধিত সংবিধান অনুযায়ী হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোকে সংসদের নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষে প্রার্থী মনোনয়ন দিতে হবে। সেক্ষেত্রে দলগুলোর পক্ষে একজন নেতা বা কর্মীকে উভয় কক্ষের সদস্য পদে মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। 

🎁 Your Special Offer is Loading...

Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.

10s

⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Comments

Popular posts from this blog

নারীর শরীরের গভীর উত্তেজনা আসলে কোথা থেকে শুরু হয়—যা পুরুষরা...see more

স্ত্রী ছাড়া কোন নারীর সাথে সহবাস করা যাবে? ইসালামের স্পষ্ট বিধান...see more

স্বামী থেকে পরিপূর্ণ যৌ,ন তৃপ্তি না পেলে নারীর আচরণ কেমন হয়...see more